৩২ ওভারেই খতম

28

জয়ের স্বপ্ন দেখাটা হয়তো বাড়াবাড়ি হতো। তবে ব্যাট হাতে টাইগাররা লড়াই দেখাবেন- এমন চাওয়াটা ছিল ন্যায্য। কিন্তু হলো না। বরং বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে লজ্জা বাড়ালেন টাইগাররা। পচেফস্ট্রম টেস্টে ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হার দেখলো বাংলাদেশ। এতে টাইগাররা ডুবলো অন্য লজ্জায়ও। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৯০ রানে গুঁড়িয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। টেস্টে বাংলাদেশের এটি পঞ্চম সর্বনিম্ন সংগ্রহ। নেতিবাচক রেকর্ডে  ২০০৭-এ কলম্বোর পি সারা ওভাল মাঠে ৬২ রানে গুঁড়িয়ে যায় টাইগাররা। টেস্টে দলীয় ১০০ রানের নিচে টাইগারদের ইনিংস গুটাতে দেখা গেল এ নিয়ে আটবার। তবে গত পাঁচ বছরে এমন ভোগান্তির নজির ছিল না বাংলাদেশের। সর্বশেষ ২০১২-তে মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮৭ রানে গুঁড়িয়ে যায় বাংলাদেশ।
পচেফস্ট্রমের সেনওয়েস পার্ক ভেন্যুতে আগের দিন ৪৯/৩ সংগ্রহ নিয়ে খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। কিন্তু পঞ্চম দিনে মাত্র সোয়া ঘণ্টা ক্রিজে কাটান টাইগার ব্যাটসম্যানরা। গতকাল স্কোর বোর্ডে ৪১ রান যোগ করে টাইগাররা খোয়ায় অবশিষ্ট ৭ উইকেট। দুই দিনে বাংলাদেশ দল ক্রিজে কাটায় সাকুল্যে ৩২.৪ ওভার। প্রোটিয়া স্পিনার কেশব মহারাজ চার ও পেসার কাগিসো রাবাদা নেন তিন উইকেট। ব্যক্তিগত ১৬ রান নিয়ে ম্যাচের চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেন মুশফিকুর রহিম। চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ ইনিংসের আয়ু ছিল ১৫.৩ ওভার।  আর গতকাল বাংলাদেশ অধিনায়ক সাজঘরে ফেরেন স্কোর বোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই। প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদার বাউন্সারে হাশিম আমলার হাতে ক্যাচ দেন মুশফিক। মুশফিকের পথ ধরেন অপর অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও। ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো ব্যাটের কানা নিয়ে নিজের স্টাম্প ভাঙেন মাহমুদুল্লাহ। রাবাদার অফ স্টাম্পের ডেলিভারি খেলবেন কি ছাড়বেন, দ্বিধায় ছিলেন রিয়াদ। পরিণতি, ব্যক্তিগত ৯ রানে প্লেডঅন। দিনের তৃতীয় শিকারটাও ছিল কাগিসো রাবাদার। এবার রাবাদার শিকার বাংলাদেশের উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাস। ব্যক্তিগত ৪ রান করে রাবাদার ইনসুইং ডেলিভারি প্যাডে খেলেন লিটন। প্রোটিয়াদের আবেদনে এলবিডব্লিউর আঙুল তোলেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ওই ডেলভারিতে কোনো শট না খেলা লিটন। আত্মাহুতি দেন সাব্বির রহমানও। প্রোটিয়া বাঁ-হাতি স্পিনার কেশব মহারাজের সোজা বলে সুইপ খেলতে যান সাব্বির। বল তার ব্যাট ফাঁকি দিয়ে আঘাত হানে তার পেছনের পায়ে। ব্যক্তিগত ৪ রানে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান আর ৬৭/৭ সংগ্রহ নিয়ে আদতে তখনই লড়াইটা শেষ হয় বাংলাদেশের। পচেফস্ট্রমে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে প্রথম দফায় ৪৯৬/৩ সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩২০ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশের এটি সর্বোচ্চ সংগ্রহ। দক্ষিণ আফ্রিকার সফরে আগের চার ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংসটি ছিল ২৫২ রানের। পচেফস্ট্রমে দ্বিতীয় দফায় ২৪৭/৬ সংগ্রহ নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এতে জয়ের জন্য বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ৪২৪ রানের। যদিও টেস্টে এত বড় টার্গেটে জয়ের স্মৃতি নেই টাইগারদের। ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ২১৭ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের। ২০০৯’র ক্যারিবীয় সফরে সেইন্ট জর্জ’স মাঠে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওই জয় কুড়ায় টাইগাররা। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের উভয় ইনিংসে চার উইকেট শিকার কেশব মহারাজের। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি হাঁকান হাশিম আমলা। ক্যারিয়ারে এটি আমলার ২৭তম সেঞ্চুরি। এতে টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ডে দ্বিতীয় স্থানে গ্রায়েম স্মিথকে স্পর্শ করেন তিনি। টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাট হাতে সর্বাধিক ৪৫ সেঞ্চুরির রেকর্ড জ্যাক ক্যালিসের। পচেফস্ট্রমে রানআউটে উইকেট খোয়ানোরা আগে ৯৭ রানের ইনিংস খেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অভিষিক্ত ওপেনিং ব্যাটসম্যান এইডেন মার্করাম। তবে ১৯৯ রানের অসাধারণ ইনিংস নিয়ে ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ওঠে প্রোটিয়ার অপর ওপেনার ডিন এলগারের হাতে। টেস্টে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে হারের ঘটনা। এমন শীর্ষ ঘটনায় ২০০৯-এ চট্টগ্রাম টেস্টে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪৬৫ রানে হার দেখে বাংলাদেশ।