৩৭ শতাংশ সড়ক মহাসড়কই ভাঙাচোরা

48

দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ঈদুল ফিতর। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহর থেকে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরবে লাখ লাখ মানুষ। তবে এই যাত্রায় ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা এসব ঘরমুখো মানুষদের। কারণ, সারা দেশে ৬ হাজার ২০৬ কিলোমিটার সড়ক ও মহাসড়কের অবস্থা নাজুক। শতকরা হিসাবে যার পরিমাণ ৩৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে জেলার সড়কগুলোর প্রায় অর্ধেক এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় এক তৃতীয়াংশই ভাঙাচোরা। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতাধীন ১৬ হাজার ৬২১ কিলোমিটার সড়ক ও মহসড়কের ওপর চালানো এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সওজের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা বিভাগ (এইচডিএম) এ জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে দেখা গেছে, আগের বছরগুলোর মতো ২০১৬-১৭ সালেও জেলা সড়কগুলোতে ৪ হাজার ২৪৭ কিলোমিটার অর্থাৎ মোট সড়কের প্রায় অর্ধেক ভাঙাচোরা। এর মধ্যে ৫৭৪ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই শোচনীয়। এবং ১ হাজার ৪৯৪ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খারাপ ও ২ হাজার ১৭৮ কিলোমিটার সড়ক দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে জরিপে। শতকরা হিসেবে ৩১ দশমিক ৫৩ শতাংশ জেলা সড়ক ভালো। বাকি ৪৭ দশমিক ৭ ভাগের অবস্থা খারাপ।
দেশে বর্তমানে জাতীয় মহাসড়ক ৩ হাজার ৭৯০ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪ হাজার ২৪৬ কিলোমিটার ও জেলা সড়ক ৪ হাজার ৭৭৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়কের মোটামুটি অবস্থায় রয়েছে ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং বাকি ২০ দশমিক ২১ শতাংশ মহাসড়কের অবস্থা খারাপ। এবং ১ হাজার ৯৭৭ কিলোমিটার বা ৫৪ শতাংশের অবস্থা ভালো। আঞ্চলিক মহাসড়কের মধ্যে মোটামুটি অবস্থায় রয়েছে প্রায় এক-চতুর্থাংশ আঞ্চলিক মহাসড়ক। ভাঙাচোরার হিসেবে জাতীয় মহাসড়কের চেয়ে আঞ্চলিক মহাসড়কের অবস্থা বেশি খারাপ। এর পরিমাণ ১ হাজার ২১৩ কিলোমিটার বা ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কের অবস্থা ভাঙাচোরা। বাকি ৪২ দশমিক ৮২ শতাংশ অর্থাৎ এক হাজার ৬৮৮ কিলোমিটারের অবস্থা ভালো। জেলা সড়কের মধ্যে ৪ হাজার ২৪৭ কিলোমিটারের অবস্থা খারাপ। এর মধ্যে ৫৭৪ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই শোচনীয়। ১ হাজার ৪৯৪ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খারাপ ও ২ হাজার ১৭৮ কিলোমিটার সড়ক দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শতকরা হিসেবে ৩১ দশমিক ৫৩ শতাংশ জেলা সড়ক ভালো। বাকি ৪৭ দশমিক ৭ ভাগের অবস্থা খারাপ। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতাধীন সড়ক ও মহসড়কের ওপর চালানো ওই জরিপে বলা হয়, প্রায় এক বছর এসব সড়কে মেরামতের কাজ হয়নি। ফলে পরিস্থিতি অনেক নাজুক হয়ে আছে। এর মধ্যে তুলনামূলকভাবে খুলনা বিভাগের সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। ভাঙাচোরা এসব সড়ক খানাখন্দ ও গর্তে ভরপুর।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলেন, রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা থাকায় গাড়ি চালাতে খুব সমস্যা হয়। গাড়িগুলো অল্পদিনেই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। অল্প বৃষ্টিতে রাস্তায় পানিতে ডুবে থাকা খানাখন্দে পড়ে যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ে। কোনো কোনো সড়কের অবস্থা এতই খারাপ যে হেলেদুলে গাড়ি চলে। এতে গাড়ির আয়ু কমে যায়। বেশি ঝাঁকি লাগায় গাড়ির সামনের দুই চাকা ও এর সঙ্গে যন্ত্রাংশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক সময় রাস্তায় পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বুঝতে পারে না চালকেরা। ওই সব গর্তে গাড়ি পড়ে উল্টে যায়। বিশেষ করে মালবাহী ট্রাক বেশি আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, এবার ঈদ পড়েছে বর্ষা মৌসুমে। এতে সড়কের ভাঙাচোরা অংশের কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঈদ যাত্রায় সড়ক মহাসড়কে প্রচুর চাপ থাকে। এ সময় আমরা যাত্রী সেবা দিতে হিমশিম খেয়ে থাকি। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমের কারণে আমাদের দুর্ভোগের পরিমাণটা একটু বেশিই হবে। যোগাযোগ করা হলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এমএএন ছিদ্দিক বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার সড়কের অবস্থা ভালো রয়েছে। আগে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সড়ক খারাপ ছিল। এবার তা কমে এসেছে। আমাদের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোর মান খারাপ না। তবে জেলা সড়কগুলোর অবস্থা কিছুটা খারাপ। ঈদের এক সপ্তাহ আগে দেশের সকল সড়ক-মহাসড়ক মেরামতসহ রাস্তার দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।