৫২ বছরে প্রথম সুর করলেন রুনা, গাইলেন আঁখি

25

উপমহাদেশের খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। দীর্ঘ ৫২ বছরের পথচলায় আজো তিনি চলচ্চিত্র এবং মঞ্চে সমান জনপ্রিয়তা নিয়ে গেয়ে চলেছেন। সংগীত জীবনের এ সুদীর্ঘ পথচলায় এবারই প্রথম এ তারকা কোনো গানের সুর করেছেন। চিত্রনায়ক ও নির্মাতা আলমগীরের নির্মিতব্য চলচ্চিত্র ‘একটি সিনেমার গল্প’র জন্য তৈরি হয়েছে এ গানটি। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন আঁখি আলমগীর। বরেণ্য গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা ‘গল্প কথার ঐ কল্পলোকে জানি, একদিন চলে যাবো, কোথায় শুরু আর শেষ হবে কোথায়, সে কথা বলে যাবো’-এমন জীবন ঘনিষ্ঠ কথায় রচিত গানটিরই সুর-সংগীত করেছেন রুনা লায়লা। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে এটির রেকর্ডিং। জীবনের প্রথম কোনো গানের সুর করা প্রসঙ্গে রুনা লায়লা বলেন, সত্যি বলতে কী আলমগীরের উৎসাহেই গানটির সুর করা। গানের কথা খুব ভালো লেগেছে আমার। আমি মনে করি একটি গানের সুর করাটাই হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন কাজ। সেই কঠিন কাজটিই জীবনের প্রথম করেছি। যে কারণে আমাকে সুর নিয়ে বেশ ভাবতে হয়েছে। তবে আলমগীরের কাছে আমার শর্ত ছিল একটাই, তা হলো অ্যাকুস্টিক ইন্সট্রুম্যান্ট দিয়েই গানের পুরো কাজ শেষ করতে হবে এবং তাই হয়েছে। গানটি গাওয়ার আগে আঁখি ভীষণ ভয়ে ছিল। কিন্তু তার ভেতর আমি আত্মবিশ্বাসটা দেখেছি। গানটি যেহেতু ক্লাসিক্যাল। তাই আঁখি খুব কষ্ট করেছে এটির চূড়ান্ত রেকর্ডিংয়ের আগে পর্যন্ত। গানটি সে অসাধারণ গেয়েছে। আঁখি আলমগীর বলেন, আমার বাবা এবং রুনা আন্টির কাছে আমি খুব কৃতজ্ঞ যে, আমার উপর বিশ্বাস রেখে তারা আমাকে দিয়ে এমন একটি গান করিয়েছেন। আমি সত্যিই খুব ভয়ে ছিলাম, ঠিকভাবে গাইতে পারবো কী না। তবে যেহেতু উচ্চাঙ্গ সংগীত আমার জানা, তাই আত্মবিশ্বাস ছিল আমি সঠিকভাবে গাইতে পারবো। রুনা আন্টি আমাকে এই গানের জন্য যেসব টেকনিক শিখিয়েছেন তাতে আমার গানের ধারাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। গানটির রেকর্ডিং শেষে তিনি যখন আমাকে জড়িয়ে ধরেন তখন বাবা, আমি আর আন্টি কাঁদছিলাম। আর এটাই ছিল আমার এ গানের জন্য বড় প্রাপ্তি। আলমগীর জানান, এই গানটি ঋতুপর্ণার লিপে যাবে। প্রসঙ্গত, আগামী ৯ই সেপ্টেম্বর থেকে বিএফডিসিতে উত্তম গুহের তৈরি সেটে ‘একটি সিনেমার গল্প’ চলচ্চিত্রটির শুটিং শুরু হবে। এর কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য আলমগীরের। তারই নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘আইকন এন্টারটেইনমেন্ট’র ব্যানারে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ হবে।

Advertisement
Print Friendly, PDF & Email
sadi