৭৪-এ আলম খান

27

সাতবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জীবন্ত কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলম খানের জন্মদিন আজ। বিশেষ কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও ঘরোয়াভাবে ছোট্ট আয়োজনের মধ্যদিয়ে দিনটি উদযাপন করা হবে। তবে তার জন্মদিনে চ্যানেল আই নিয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। অনন্যা রুমার প্রযোজনায় ‘সেরা গান’ অনুষ্ঠানে আলম খানের উপস্থিতিতে তার প্রতি শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে দুজন শিল্পী তার সুর-সংগীত করা গান পরিবেশন করবেন। অনুষ্ঠানটি সরাসরি দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে চ্যানেল আইতে প্রচার হবে। এরপর বাকিটা সময় আলম খান পরিবারের সঙ্গেই কাটাবেন।

জন্মদিন প্রসঙ্গে এ গুণীজন বলেন, কীভাবে যে ৭৪ বছরে পা দিতে যাচ্ছি বুঝতেই পারছি না। বারবারই শুধু মনে হচ্ছে এই তো সেদিন আমার বয়স ছিল মাত্র দশ বছর। কিন্তু দেখতে দেখতে জীবনের এতটা সময় পেরিয়ে গেলো- ভাবলেই অবাক হই। জন্মদিনে সবার কাছে দোয়া চাই যেন সুস্থ থাকি, ভালো থাকি। কিছু নতুন কাজের পরিকল্পনা আছে। সেগুলো যেন শেষ করে যেতে পারি। আলম খান সর্বশেষ অমিত হাসান পরিচালিত ‘কে আপন কে পর’ চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছিলেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে বেশ ভালো কিছু গান সুর করলেও আব্দুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘সারেং বউ’ চলচ্চিত্রের আব্দুল জব্বারের কন্ঠের ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটি করার পর আলম খান বেশ আলোচনায় চলে আসেন। মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। এই চলচ্চিত্রের বিখ্যাত গান ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস দম ফুরাইলে ঠুস’। এটি লিখেছিলেন সৈয়দ শামসুল হক এবং গেয়েছিলেন অ্যান্ড্রু কিশোর। এরপর তিনি ‘তিন কন্যা’, ‘সারেন্ডার’, ‘দিনকাল’, ‘বাঘের থাবা’, ‘কী জাদু করিলা’, ‘এবাদত’ চলচ্চিত্রের জন্য একই সম্মাননা পান। তারই হাত ধরে বাংলাদেশের সিনেমার গানে অভিষেক হয় ফেরদৌস ওয়াহিদ, কুমার শানু, অ্যান্ড্রু কিশোর, শেখ ইশতিয়াক প্রমুখের। তার সুর-সংগীতে সিনেমায় সবচেয়ে বেশি গান গেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন ও অ্যান্ড্রু কিশোর। আলম খানের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বানিয়াগাছিতে। তার দুই ছেলে আরমান খান, আদনান খান ও একমাত্র মেয়ে আনিকা খান। তার সহধর্মিণী গুলবানু খান। আলম খানের বাবা আফতাব উদ্দিন খান ও মা জোবেদা খানম।