নালিতাবাড়ীতে গরু নিয়ে বিপাকে পাইকার

71

মঞ্জুরুল আহসান : ঈদে কোরবানির গরু ব্যবসায় বেশ লাভ। এমনটিই ভেবেছিল সমেদ আলী, আলাল উদ্দীন, মোকছেদ আলী। সাড়ে সাত লাখ টাকা দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্রয় করে ৯টি ষাঁড়। উদ্দেশ্য ছিল ঢাকার বাজারে বিক্রি করে কিছু টাকা লাভ করবে। ঈদের আগে রোববারে ট্রাকে করে সেই গরু গুলো তারা নিয়ে যায় ঢাকায়। ঢাকার বিভিন্ন হাটে গরু গুলো তারা ওঠায়। আসল দামের চেয়েও ২০/৩০ হাজার টাকা কমে দাম হয় গরু গুলো। দিশেহারা এই পাইকারেরা। তিনদিন অপেক্ষা করে গরুগুলো বিক্রির জন্য। শেষে আর ক্রেতা পায় না। কি আর করার? ঈদের দিন আবার সেই গরু গুলো নিয়ে তারা চলে আসে নিজ গ্রামে। এতে অনেক টাকা খরচ হয় তাদের।

জানা গেছে, এই ৯টি গরু নিয়ে রোদবৃষ্টি সহ্য করে খোলা আকাশের নিচে রয়েছে তারা। শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ীর বাঘবেড় দিকপাড়া এলাকায় প্রধান সড়কে অবস্থান করছে গরু নিয়ে তারা। যতই দিন যাচ্ছে ততই গরুর ওজন কমে যাচ্ছে। বাড়িতে গরু লালন পালনের কোনো ঘর নেই তাদের। তাই রাস্তার ধারে এই গরুগুলো নিয়ে মহা বিপাকে তারা। ৯টি গরু লালন পালনে দিনে দুই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হচ্ছে তাদের।

সমেদ আলী, আলাল উদ্দীন, মোকছেদ আলী জানান, আমরা ঋণ ধার করে টাকা সংগ্রহ করে এসব গরু ক্রয় করি। প্রত্যেক ঈদেই গ্রাম থেকে গরু ক্রয় করে ঢাকায় বিক্রি করে তাদের মুনাফা আসতো বেশ। এবার গরু ক্রয় করে তারা দিশেহারা। ৯টি গরু ঢাকা থেকে ফেরত নিয়ে এসে তারা পড়েছেন মহা বিপাকে। বাড়িতে এসব গরু পালন করার কোনো উপায় নেই তাদের। তাই রাস্তার ধারে রোদ বৃষ্টি সহ্য করে গরু গুলো পালন করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। অসুখ বিসুখের আতংকতো আছেই। একদিকে প্রচুর খরচ। অপরদিকে ওজন কমে যাচ্ছে গরুগুলোর। সবকিছু মিলিয়ে এই গরুগুলো ও তাদের কষ্টের যেন আর শেষ নেই।

স্থানীয় নিবারণ চন্দ্র বর্মণ সহ অন্যান্যরা বলেন, এই তিন ব্যক্তি মুরগির পাইকারী করে। গরিব মানুষ। প্রতি ঈদেই তারা কিছু গরু কিনে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করে কিছু লাভ পায়। এবারও ঠিক তাই গরু কিনেছিল। দাম কম থাকায় ঢাকা থেকে ফেরত আসে। এই গরু গুলো বিক্রি করতে না পারায় তারা অনেকটাই নি:স্ব হয়ে গেল।

Advertisement
Print Friendly, PDF & Email
sadi