শেরপুরে বিধিনিষেধ অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা ও যানবাহন আটক

230

জিএইচ হান্নান : সারাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ (কোভিড-১৯) আশংকাজনক হারে বেড়েই চলেছে। এর প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ রাখতে সরকার ঘোষিত ১৪ দিনের দ্বিতীয় দফায় কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ লকডাউন চলবে আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত। এরই অংশ হিসেবে শেরপুরে ২৬ জুলাই সোমবার লকডাউনের ৪র্থ দিনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কঠোর লকডাউন কার্যকরে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা দিনভর মাঠে ছিল। এসময় লকডাউন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয় এবং সেই সাথে মোটরসাইকেলসহ বেশকিছু ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক ও অটোরিক্সা আটক করা হয়। পৃথক পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২৩ টি মামলায় ১৫ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোঃ মোমিনুর রশীদ এর নির্দেশনায় সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদ, সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিক আল শাফিন, আকলিমা আক্তার, এস. এম. আল-আমীন এবং ময়মনসিংহ সেনানীবাসের ৪ বীর এর ক্যাপ্টেন তৈমুর এর নেতৃত্বে সেনা সদস্য ও পুলিশ সদস্যসহ শেরপুর সদর উপজেলার কুসুমহাটি ও শেরপুর পৌরসভার বিভিন্নস্থানে পৃথক পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসময় কঠোর লকডাউন ও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সদর উপজেলার কুসুমহাটি বাজার ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের চৈতনখিলা বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় এবং অযথা ঘোরাফেরা, মোটর সাইকেলসহ যানবাহন রাস্তায় বের করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদ ভ্রাম্যমাণ আদালতে সংক্রমণ ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ নির্মুল আইন ২০১৮ এর ২৫ এর ১ এর খ ধারায় দোষী সাব্যস্থ করে ৭টি মামলায় ৪ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করেন।

একই দিন দুপুরে সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিক আল শাফিন পৌরসভার বিভিন্নস্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় কঠোর লকডাউন অমান্য করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দায়ে ১৮৬০ সালের দঃবিঃ ২৬৯ ধারায় দোষী সাব্যস্থ করে ৪টি মামলায় ৪ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করেন।

এদিকে একইদিন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকলিমা আক্তার শেরপুর জেলা শহরের পৌরসভার শেখহাটি বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ১৮৬০ সালের দঃবিঃ ২৬৯ ধারায় ৪ ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্থ করে ৪টি মামলায় ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়াও একই দিন সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. আল-আমীন পৌরসভার বিভিন্নস্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ১৮৬০ সালের দঃবিঃ ২৬৯ ধারায় ৮ ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্থ করে ৮টি মামলায় ৪ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত ব্যক্তিরা তাদের জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।

এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ময়মনসিংহ সেনানীবাসের ৪ বীর এর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোফাজ্জল হোসেন (ইমন), সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. রইছ উদ্দিন, সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন দেবনাথ, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পেশকার মো. হেলাল উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম, শহিদুর রহমান, সদর ভূমি অফিসের নায়েব সাদেক আলীসহ সেনা সদস্য ও পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা আফ্রাদ বলেন, কঠোর লকডাউন পরিস্থিতি আরো কার্যকরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি এমনটাই জানান। এছাড়াও সর্বস্তরের মানুষকে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেন।

Advertisement
Print Friendly, PDF & Email
sadi